Birthday Celebration
Field Stories
Real updates from the field — the people, moments, and progress behind our work.
Birthday Celebration
One meal one hope
খাদ্য অপচয় রোধে সচেতনতা: প্রয়োজনের মানুষের কাছে খাবার পৌঁছানোর আহ্বান
প্রতিদিন পৃথিবীজুড়ে বিপুল পরিমাণ খাদ্য উৎপাদিত হয়। কিন্তু উৎপাদন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, পরিবহন, বিক্রয়, প্রস্তুত ও ভোগের বিভিন্ন পর্যায়ে খাদ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নষ্ট বা অপচয় হয়ে যায়। অন্যদিকে, একই সময়ে অসংখ্য মানুষ পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা থেকে বঞ্চিত। এই বৈপরীত্য খাদ্য ব্যবস্থাপনা, মানবিকতা এবং সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। প্রতি বছর ২৯ সেপ্টেম্বর Inte
World Literacy Day
শিশুর হাসিতে লেখা Literacy Day-এর গল্প
একটি নতুন T-shirt। কারও কাছে হয়তো খুব সাধারণ একটি জিনিস। কিন্তু যে শিশুর জীবনে নতুন পোশাক পাওয়া খুব স্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়, তার কাছে একটি নতুন T-shirt হতে পারে অনেক বড় আনন্দের কারণ। ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে Better Hope Foundation-এর পক্ষ থেকে এমনই কিছু আনন্দের মুহূর্ত তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছিল। One Meal One Hope-এর Khilgaon Police Fari Point ও Komolapur Point-এর পথশিশুদের প
Project Shommriddhi
এক পা হারিয়েও থামেনি লড়াই, নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প আবু বক্কর সিদ্দিকের
এক পা হারিয়েছেন, কিন্তু থামেনি তাঁর লড়াই একটি ছোট্ট মুদি দোকান। স্কুলের পাশে কাঠ আর টিন দিয়ে তৈরি এই দোকানটিই মোহাম্মদ আবু বক্কর সিদ্দিকের পরিবারের আয়ের অন্যতম প্রধান ভরসা। কিন্তু একসময় সেই দোকানের তাকগুলো প্রায় ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল। পায়ে মাছের কাঁটা বিঁধে শুরু হয়েছিল সমস্যার। ধীরে ধীরে সেখানে পচন ধরে পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে যায় যে, শেষ পর্যন্ত তাঁর একটি পা কেটে ফেলতে হয়। এক মুহূর্তে বদলে যায় তাঁর জ
Project Shommriddhi & Project Alo
একটি চোখের চিকিৎসা থেকে একটি পরিবারের স্বাবলম্বিতার পথে: এমদাদুল ও জামিলা খাতুনের গল্প
এমদাদুল ও জামিলা খাতুনের গল্প দারিদ্র্য শুধু অর্থের অভাব নয়। দারিদ্র্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে চিকিৎসার অনিশ্চয়তা, প্রয়োজনের সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে না পারা এবং প্রতিদিনের জীবনকে টেনে নেওয়ার নিরন্তর সংগ্রাম। তাই একটি পরিবারের পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু একটি সমস্যার সমাধান করে সেখানেই থেমে যাওয়া নয়। প্রয়োজনের জায়গাটি বুঝে, যতটা সম্ভব সেই সমস্যার মূল কারণের দিকেও এগিয়ে যাওয়া। এমদাদুল ও তাঁর মা জামিলা খাতুন
Youth Skill Development
Why the Future of Humanitarian Work Belongs to the Young
On 19 August 2026, Better Hope Foundation stood alongside NUB Central Ethics Club at Northern University Bangladesh to mark World Humanitarian Day — not with speeches about the past, but with a simple invitation to the students walking by: come learn what it means to serve. We set up an information booth on campus, nothing elaborate, just a table, a few banners, and people willing to talk, and by
One Meal One Hope
Tamu Mamu-এর সঙ্গে One Meal One Hope-এর একটি দিন
একটি খাবার হয়তো আমাদের কাছে খুব সাধারণ একটি বিষয়। কিন্তু এমন অনেক মানুষের জন্য, যাদের প্রতিদিনের জীবন অনিশ্চয়তা ও অভাবের মধ্য দিয়ে কাটে, একবেলা খাবারও অনেক বড় একটি প্রয়োজন। সেই প্রয়োজনের জায়গা থেকেই Better Hope Foundation-এর নিয়মিত উদ্যোগ One Meal One Hope কাজ করে যাচ্ছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিদিন সুবিধাবঞ্চিত ও প্রয়োজনমতো মানুষের হাতে একবেলা খাবার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সম্প্রতি One Me
Courtesy Meeting
মাননীয় প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূরের সঙ্গে Better Hope Foundation-এর সৌজন্য সাক্ষাৎ
Better Hope Foundation-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব নুরুল হক নূরের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাক্ষাৎকালে Better Hope Foundation-এর কার্যক্রম, মানবিক উদ্যোগ এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করা হয়। পাশাপাশি Foundation-এর চলমান কার্যক্রম, সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
Emergency Flood Relief
একটি ঘর, একটি পরিবারের ফিরে পাওয়া আশ্রয়
একটি ঘর; শুনতে খুব সাধারণ একটি শব্দ। অথচ একজন মানুষের কাছে একটি ঘর মানে সারাদিনের ক্লান্তি শেষে ফিরে আসার জায়গা, পরিবারের মানুষগুলোকে নিয়ে নিরাপদে ঘুমিয়ে পড়ার নিশ্চয়তা, সন্তানদের জন্য একটি আশ্রয়। ঘর ইটের হোক, মাটির হোক কিংবা টিনের, ঘর যখন নিজের হয়, তখন তার মূল্য কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনা করা যায় না। আর সেই ঘরটি যখন হারিয়ে যায়, তখন শুধু একটি স্থাপনা হারায় না; অনেক সময় একটি পরিবারের শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে যায়। নদীমাতৃক বাংলাদেশে বন্যা যেন আমাদের পরিচিত এক নির্মম বাস্তবতা। প্রতি বছর কোনো না কোনো জনপদ পানিতে ডুবে যায়, মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, জীবিকা থেমে যায়। বন্যার পানি যখন আসে, তখন সে অনেক সময় সঙ্গে করে নিয়ে যায় মানুষের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা সংসার, সঞ্চয়, স্বপ্ন; এমনকি বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বনটুকুও। চট্টগ্রামের বাঁশখালীতেও এমনই এক ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছিল অসংখ্য পরিবার। তাদেরই একজন মো. আলমগীর ও তার স্ত্রী তারজিনা আক্তার। দুই সন্তানকে নিয়ে ছোট্ট তাদের সংসার। অর্থের অভাব ছিল, জীবনে স্বচ্ছলতা ছিল না, কিন্তু অভাবের মধ্যেও তাদের সংসার ছিল পরিপূর্ণ, ছিল একে অপরকে নিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা, ছিল সন্তানদের ঘিরে ছোট ছোট স্বপ্ন। তারপর এলো বন্যা। সেদিন রাতে তারা ঘুমিয়ে ছিলেন। কেউ ভাবেনি, ঘুম ভাঙার আগেই পানি তাদের জীবনের সব হিসাব বদলে দেবে। হঠাৎ ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়ল। মুহূর্তের মধ্যে ঘরের মেঝে পানিতে তলিয়ে গেল। পানি বাড়তে বাড়তে এমন পর্যায়ে পৌঁছাল যে, সন্তানদের বুকে আঁকড়ে ধরে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটে যেতে বাধ্য হলেন তারা। সেই মুহূর্তে সঙ্গে নেওয়ার মতো কিছুই ছিল না। ছিল শুধু সন্তানদের বাঁচানোর তাগিদ। বন্যার পানি একসময় কমে গেল। বিপদের সবচেয়ে ভয়াবহ মুহূর্তটিও কেটে গেল। কিন্তু পানি নেমে যাওয়ার পর যখন মো. আলমগীর ও তার পরিবার নিজেদের ঘরে ফিরে এলেন, তখন তারা দেখলেন, যে জায়গাটিকে এতদিন ঘর বলে চিনতেন, সেটি আর ঘর নেই। বন্যা চলে গেছে, কিন্তু রেখে গেছে ধ্বংসের চিহ্ন। ঘরের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত, চারপাশে কাদা, নষ্ট হয়ে যাওয়া জিনিসপত্র, সবকিছু মিলিয়ে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল এক কঠিন প্রশ্ন: এবার তারা কোথায় থাকবে? একজন দিনমজুর ও জেলে পরিবারের জন্য এমন একটি ঘর আবার তৈরি করা প্রায় অসম্ভব। প্রতিদিনের আয় দিয়ে যেখানে সংসারের খাবার জোগাড় করাই কঠিন, সেখানে নতুন করে ঘর নির্মাণের খরচ বহন করা তাদের জন্য ছিল কল্পনারও বাইরে। ঠিক সেই জায়গাতেই Better Hope Foundation তাদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছিলাম, তারা একা নন। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরটি আবার দাঁড় করানোর চেষ্টা আমরা করব। কিন্তু এই কাজটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব হয়নি। এটি সম্ভব হয়েছে অসংখ্য মানুষের ছোট ছোট সহযোগিতায়। কেউ হয়তো সামর্থ্য অনুযায়ী অল্প দিয়েছেন, কেউ একটু বেশি। সেই ছোট ছোট অনুদান একসঙ্গে জমে ধীরে ধীরে একটি পরিবারের নতুন আশ্রয়ের ভিত্তি তৈরি করেছে। নির্মাণসামগ্রী পৌঁছেছে। শুরু হয়েছে কাজ। ধীরে ধীরে ভাঙা ঘরের জায়গায় উঠেছে নতুন ঘর। প্রতিটি ধাপে ছিল একটি পরিবারের অপেক্ষা, একটি মায়ের স্বস্তির আশা, দুই সন্তানের নিরাপদে ঘুমানোর আকাঙ্ক্ষা। শেষ পর্যন্ত সেই অপেক্ষারও অবসান হয়েছে। মো. আলমগীর ও তারজিনা আক্তারের পরিবার আবার একটি ঘর পেয়েছে। এমন একটি জায়গা, যেখানে দিনের শেষে তারা ফিরে আসতে পারবেন। যেখানে তাদের দুই সন্তান নিরাপদে ঘুমাতে পারবে। যেখানে বৃষ্টির শব্দ শুনে তাদের আর আগের মতো আতঙ্কিত হতে হবে না। নতুন ঘরটি হয়তো আমাদের চোখে খুব বড় কোনো স্থাপনা নয়। কিন্তু এই পরিবারের কাছে এটি তাদের হারিয়ে যাওয়া জীবনের একটি অংশ ফিরে পাওয়া। তারা Better Hope Foundation-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। কিন্তু সত্যিটা হলো, এই ঘর শুধু Better Hope Foundation তৈরি করেনি। এই ঘরের প্রতিটি অংশের পেছনে রয়েছে সেই মানুষগুলোর সহযোগিতা, যারা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়িয়েছেন। একটু একটু করে দেওয়া সেই সহযোগিতাগুলোই একদিন একটি পরিবারের মাথার ওপর ছাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা জানি, চট্টগ্রামের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা অনেক। একজনের ঘর তৈরি করে দেওয়া মানেই সবার প্রয়োজন পূরণ হয়ে যাওয়া নয়। আমাদের সামর্থ্য সীমিত, প্রয়োজন অনেক বড়। হয়তো আমরা এখনই সব পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারব না। কিন্তু অন্তত একজনের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি। একটি পরিবারকে আবার নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি। আর আমাদের কাছে এটিই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরিবর্তন সবসময় বড় কিছু দিয়ে শুরু হয় না। কখনো কখনো কয়েকজন মানুষের ছোট ছোট সহযোগিতা মিলেই একটি পরিবারের জীবন বদলে যায়। একটি ঘর হারানো মানে অনেক কিছু হারানো। আর একটি ঘর ফিরে পাওয়া মানে শুধু একটি ছাদ ফিরে পাওয়া নয়, ফিরে পাওয়া নিরাপত্তা, স্বস্তি, মর্যাদা এবং নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস। Better Hope Foundation বিশ্বাস করে, যে মানুষটির প্রয়োজন আছে, তার পাশে দাঁড়ানোই আমাদের দায়িত্ব। দুর্যোগের সময় শুধু খাবার পৌঁছে দেওয়া নয়; দুর্যোগের পর মানুষ যখন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে নিজের জীবনকে আবার গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তখনও তাদের পাশে থাকা জরুরি। আজ মো. আলমগীর ও তার পরিবারের ঘরে আবার আলো জ্বলবে। তাদের সন্তানরা আবার নিজেদের ঘরে ঘুমাবে। হয়তো এই ঘরের গল্প খুব ছোট। কিন্তু এই ছোট গল্পটিই আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ালে অসম্ভব মনে হওয়া কাজও সম্ভব হয়ে ওঠে। একটি পরিবার একটি ঘর ফিরে পেয়েছে। আমরা চাই, এই গল্প এখানেই শেষ না হোক। আপনাদের সহযোগিতা থাকলে, Better Hope Foundation ভবিষ্যতেও এমন পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে চায়, যারা দুর্যোগে সব হারিয়ে আবার শূন্য থেকে শুরু করার চেষ্টা করছেন। কারণ একটি ঘর শুধু থাকার জায়গা নয়। একটি ঘর মানে ফিরে আসার জায়গা। একটি ঘর মানে নিরাপত্তা। একটি ঘর মানে একটি পরিবারের নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস।
Youth Skill Development
Better Hope Foundation and NUB Central Ethics Club Join Hands to Promote Youth Engagement in Humanitarian Action
Humanitarian action begins with awareness, but meaningful change happens when people choose to act. With this belief, Better Hope Foundation has partnered with NUB Central Ethics Club of Northern University Bangladesh for World Humanitarian Day 2026, with a shared focus on engaging young people in humanitarian values, social responsibility, and community action. On 12 August 2026, representatives of NUB Central Ethics Club visited Better Hope Foundation, where both organizations formally signed an agreement for their collaboration on World Humanitarian Day 2026. The partnership reflects a shared understanding of the important role young people can play in creating a more responsible and compassionate society. As future professionals, leaders, and decision-makers, university students have the potential to influence not only their own communities but also the wider society around them. Universities provide an important environment for this kind of engagement. Beyond academic learning, they allow young people to exchange ideas, develop ethical perspectives, understand social challenges, and explore ways to contribute to the communities they are part of. Through this collaboration, Better Hope Foundation and NUB Central Ethics Club aim to create an opportunity for students to engage with humanitarian values in a meaningful way. The initiative will encourage conversations around empathy, responsibility, social awareness, and the role individuals can play in responding to the needs of others. World Humanitarian Day 2026 will be observed at Northern University Bangladesh on 19 August 2026. The programme will bring students and members of the university community together through awareness, dialogue, and engagement activities centered on humanitarian action. For Better Hope Foundation, youth engagement is an important part of creating sustainable social impact. Humanitarian work is not limited to responding to immediate needs. It also involves building awareness, developing empathy, encouraging responsible citizenship, and creating a generation that understands its ability to contribute to positive change. This collaboration with NUB Central Ethics Club represents an opportunity to bring these conversations into the university environment and encourage students to see humanitarian action as something they can actively participate in. We appreciate NUB Central Ethics Club for initiating this collaboration and for creating a platform where young people can engage with humanitarian values and social issues. As we come together on 19 August, we look forward to engaging with the students of Northern University Bangladesh and continuing an important conversation: how can young people move beyond awareness and become active contributors to their communities? Because humanitarian action is not only about helping others in times of crisis. It is also about building empathy, taking responsibility, and choosing to make a difference wherever we can.
One Meal One Hope
RJ Zibraan Visits Better Hope Foundation, Connecting With Our Work at One Meal One Hope
At Better Hope Foundation, we believe meaningful change begins with understanding people, listening to their stories, and being willing to stand beside communities that are often overlooked. It was a pleasure to welcome RJ Zibraan, one of Bangladesh’s familiar voices in radio, media, and digital storytelling, to Better Hope Foundation. As part of his visit, he spent time at our Khilgaon point, where he had the opportunity to witness one of our ongoing initiatives, One Meal One Hope, from close range. One Meal One Hope is one of Better Hope Foundation’s core humanitarian initiatives, built around a simple but important idea: no one should have to go without a meal when there are people willing to stand beside them. Through this initiative, we provide meals to people facing food insecurity and difficult circumstances. Beyond providing food, One Meal One Hope gives us an opportunity to connect with people directly, understand their circumstances, and remind them that they have not been forgotten. The Khilgaon point is where this work becomes visible on the ground. Meals are prepared and distributed among people who come to the point, creating a space where a basic necessity is addressed with dignity and compassion. During his visit, RJ Zibraan was able to see this process firsthand. Rather than simply hearing about our work, he had the opportunity to observe the initiative at the point where it takes place and interact with the people at the heart of One Meal One Hope. For us, this kind of visit carries particular significance. A humanitarian initiative is not only about numbers, meals, or distribution. It is about the people behind those numbers—their daily struggles, their dignity, and their right to basic necessities. The presence of public voices and media personalities can also play an important role in creating greater awareness around such realities. When people take the time to step into the field, witness social initiatives firsthand, and understand the stories behind them, it can help bring conversations about humanitarian responsibility closer to a wider audience. Known professionally as RJ Zibraan, Muhtasim Rahman began his media journey through radio. His early experience at Radio Padma helped shape his skills in broadcasting and presentation, eventually leading him to Bangla Radio 95.2 FM. Over the years, his work has expanded across radio, digital storytelling, presentation, and motivational speaking, with content covering subjects including history, literature, art, sports, and infotainment. His professional journey also reflects persistence. Before establishing himself in radio and media, he faced several rejections while pursuing opportunities as an RJ. Rather than allowing those setbacks to stop him, he continued learning and developing his craft, eventually building a career across different areas of media and communication. Following his time at the Khilgaon point, we were also delighted to welcome RJ Zibraan to the Better Hope Foundation office. As a small gesture of appreciation, our team presented him with flowers and welcomed him with warmth and gratitude. At Better Hope Foundation, One Meal One Hope continues to be more than a meal distribution initiative. It is an ongoing effort to reach people who need immediate support while creating meaningful human connections through service. We believe that lasting social impact is created when people, organizations, communities, and responsible voices come together. Every meal served is a small step, but collectively, these steps can contribute to a more compassionate and responsible society. We are grateful to RJ Zibraan for taking the time to visit our Khilgaon point, witness One Meal One Hope firsthand, interact with the people we serve, and learn more about the work behind the initiative. We hope such visits continue to create greater awareness, meaningful conversations, and more opportunities to turn concern into action. Welcome to Better Hope Foundation, RJ Zibraan.
Fruit Festival 2026
ফল উৎসব ২০২৬: শিশুদের হাসি, পুষ্টি ও স্বপ্নে ভরা একটি বিশেষ দিন
একটি শিশুর শৈশব শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। খেলাধুলা, আনন্দ, পুষ্টিকর খাবার, বন্ধুত্ব এবং নিজের মতো করে কিছু সুন্দর মুহূর্ত উপভোগ করার সুযোগও একটি সুন্দর শৈশবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বিশ্বাস থেকেই বেটার হোপ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আমাদের কার্যালয়ে আয়োজিত হয় একটি বিশেষ ফল উৎসব, যেখানে অংশ নেয় হোপ স্কুলের প্রিয় শিক্ষার্থীরা। আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান অতিথিদের ঘিরে সাজানো এই আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের জন্য একটি আনন্দময় দিন তৈরি করা, স্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে তাদের পরিচয়কে আরও আনন্দঘন করে তোলা এবং একসঙ্গে কিছু সুন্দর স্মৃতি তৈরি করা। একটি সুন্দর আয়োজনের শুরু হয় আন্তরিক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে। শিশুদের জন্য ফল সংগ্রহ থেকে শুরু করে সেগুলোর সতেজতা ও মান যাচাই, ফল সাজানো এবং পুরো পরিবেশকে উৎসবমুখর করে তোলা, প্রতিটি ধাপেই ছিল আমাদের টিম ও স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক অংশগ্রহণ। প্রতিটি ফল বাছাই, প্রতিটি প্লেট সাজানো এবং প্রতিটি ছোট্ট প্রস্তুতির পেছনে ছিল একই চিন্তা, আমাদের ছোট্ট অতিথিরা যেন একটি সুন্দর, নিরাপদ ও আনন্দময় দিন উপভোগ করতে পারে। বেটার হোপ ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ও ধীরে ধীরে রূপ নেয় একটি ছোট্ট উৎসবের আঙিনায়। শিশুরা একে একে অনুষ্ঠানে এসে পৌঁছানোর পরই পুরো পরিবেশে যোগ হয় নতুন প্রাণ। তাদের পরিচয়পর্ব ছিল দিনের অন্যতম সুন্দর একটি অংশ। তারা নিজেদের নাম, প্রিয় খাবার, প্রিয় খেলা এবং নানা পছন্দের কথা ভাগ করে নেয়। তাদের কথার মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে প্রত্যেকের নিজস্ব ব্যক্তিত্ব ও পছন্দ। কারও প্রিয় খেলা, কারও পছন্দের খাবার কিংবা বড় হয়ে কী হতে চায়, প্রতিটি উত্তরেই ছিল তাদের নিজস্ব একটি ছোট্ট জগৎ। এসব ছোট ছোট কথোপকথন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রতিটি শিশুই আলাদা। প্রত্যেকের রয়েছে নিজস্ব আগ্রহ, প্রতিভা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের মতো করে দেখা একটি স্বপ্ন। এরপর শুরু হয় খেলাধুলার পর্ব। খেলতে খেলতে শিশুদের হাসি, একে অপরকে উৎসাহ দেওয়া এবং জয়ের মুহূর্তে তাদের উচ্ছ্বাস পুরো পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। কেউ জিতেছে, কেউ হয়তো জেতেনি, কিন্তু প্রত্যেকের অংশগ্রহণই ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমাদের কাছে এই খেলাগুলোর উদ্দেশ্য শুধু প্রতিযোগিতা নয়, বরং শিশুদের একসঙ্গে সময় কাটানো, বন্ধুত্ব তৈরি করা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ করে দেওয়া। খেলার সেই মুহূর্তগুলোতেই তৈরি হয়েছে দিনের অনেক স্মরণীয় দৃশ্য। খেলার পর ছিল পুরস্কার বিতরণের পর্ব। ছোট্ট একটি পুরস্কার হয়তো মূল্যমানের দিক থেকে খুব বড় কিছু নয়, কিন্তু একটি শিশুর হাতে যখন সেটি তুলে দেওয়া হয়, তখন তার আনন্দের মূল্য অন্যরকম। পুরস্কার পাওয়ার আনন্দ, সহপাঠীদের অভিনন্দন এবং চারপাশের করতালিতে শিশুদের মুখের হাসি আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। আমরা বিশ্বাস করি, শিশুদের প্রতিটি ছোট অর্জনকে উৎসাহ দেওয়া জরুরি। কারণ একটি শিশুর আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় এমনই ছোট ছোট স্বীকৃতি ও ইতিবাচক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। এরপর আসে দিনের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত মুহূর্ত, ফল উৎসব। শিশুদের সামনে সাজানো ছিল বিভিন্ন ধরনের তাজা ফল। তারা নিজেরাই নিজেদের পছন্দের ফল বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়। নিজের হাতে পছন্দের ফল তুলে নেওয়ার সেই ছোট্ট স্বাধীনতাতেও ছিল অনেক আনন্দ। কেউ বেছে নিয়েছে তার প্রিয় ফল, কেউ একাধিক ফল নিয়ে নিজের প্লেট সাজিয়েছে। আর যখন সবাই একসঙ্গে বসে ফল খেতে শুরু করে, তখন পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় একসঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মুহূর্তে। রঙিন ফলের আয়োজনের চেয়েও বেশি রঙিন ছিল শিশুদের হাসিমুখ। ফল উৎসবের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে আনন্দের একটি ইতিবাচক সম্পর্ক তৈরি করা। শিশুদের সুস্থ বিকাশে পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে শুধু পুষ্টির কথা বললেই একটি শিশুর কাছে স্বাস্থ্যকর খাবার আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে না। আনন্দ, অংশগ্রহণ এবং নিজের পছন্দের সুযোগের মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে একটি ইতিবাচক অভিজ্ঞতা তৈরি করা সম্ভব। ফল উৎসব ছিল সেই চিন্তারই একটি ছোট্ট উদ্যোগ। একটি প্লেট ফল হয়তো একটি শিশুর জীবনে বড় কোনো পরিবর্তন এনে দেবে না, কিন্তু সেই প্লেটকে ঘিরে তৈরি হওয়া আনন্দ, একসঙ্গে খাওয়ার অভিজ্ঞতা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার নিয়ে তৈরি হওয়া ইতিবাচক ধারণা তার শৈশবের একটি সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকতে পারে। দিনের শেষে শিশুরা যখন বিদায় নিতে শুরু করে, তখন উৎসবের কোলাহল ধীরে ধীরে কমে আসে। কিন্তু থেকে যায় তাদের হাসি, খেলার মুহূর্ত, নিজেদের পছন্দের ফল বেছে নেওয়ার আনন্দ এবং সারাদিনের অসংখ্য ছোট ছোট স্মৃতি। ফল উৎসব আমাদের জন্য তাই শুধু একটি অনুষ্ঠান ছিল না। এটি ছিল শিশুদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ, তাদের পছন্দ জানার সুযোগ, তাদের স্বপ্ন শোনার সুযোগ এবং তাদের আনন্দের অংশীদার হওয়ার সুযোগ। বেটার হোপ ফাউন্ডেশন বিশ্বাস করে, একটি সুন্দর শৈশব গড়ে ওঠে যত্ন, ভালোবাসা, শিক্ষা, আনন্দ এবং সঠিক পুষ্টির সমন্বয়ে। হোপ স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই বিশেষ ফল উৎসব ছিল সেই বিশ্বাসেরই একটি ছোট্ট প্রকাশ। তবে আমাদের লক্ষ্য শুধু একদিনের আনন্দ তৈরি করা নয়। প্রতিটি শিশুর জন্য একটি নিরাপদ, শিক্ষিত, সুস্থ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে আমরা দীর্ঘমেয়াদি পথচলায় বিশ্বাস করি। শিশুদের জন্য এমন প্রতিটি আয়োজন আমাদের আরও একবার মনে করিয়ে দেয়, তাদের প্রয়োজন শুধু সহায়তা নয়, প্রয়োজন সুযোগ, যত্ন, উৎসাহ এবং স্বপ্ন দেখার পরিবেশ। আজকের ছোট্ট একটি আনন্দের মুহূর্ত হয়তো ভবিষ্যতে তাদের শৈশবের একটি প্রিয় স্মৃতি হয়ে থাকবে। আর সেই স্মৃতির অংশ হতে পারাটাই আমাদের জন্য বড় একটি প্রাপ্তি। ফল উৎসব ২০২৬ ছিল শিশুদের হাসি, পছন্দ, খেলা, স্বপ্ন এবং একসঙ্গে কাটানো কিছু সুন্দর মুহূর্তের গল্প। আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতাকে সঙ্গে নিয়ে বেটার হোপ ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতেও শিশুদের জন্য আরও অর্থবহ উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। কারণ প্রতিটি শিশুর একটি সুন্দর শৈশবের অধিকার রয়েছে, আর সেই সুন্দর আগামী গড়ে তুলতে আমাদের ছোট ছোট প্রচেষ্টাই একদিন বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারে।
Project Shitolota
একটুখানি বাতাস, অনেকটা স্বস্তি: ৫৫ শিক্ষার্থীর জন্য Better Hope Foundation-এর Project Shitolota
একটুখানি বাতাস, অনেকটা স্বস্তি: ৫৫ শিক্ষার্থীর জন্য Better Hope Foundation-এর Project Shitolota গরমের দিনে একটি ফ্যান আমাদের কাছে খুব সাধারণ একটি বিষয়। কিন্তু একটি মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষে বসে দিনের দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করা একটি শিশুর জন্য পর্যাপ্ত বাতাসের ব্যবস্থা না থাকা প্রতিদিনের পড়াশোনাকে বেশ কঠিন করে তুলতে পারে। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীরা এমন বাস্তবতার মধ্য দিয়েই পড়াশোনা করছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও তাদের ক্লাসে বসে থাকতে হয়, পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে হয় এবং কুরআন তিলাওয়াত চালিয়ে যেতে হয়। অথচ একটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তাদের এই সময়টুকুকে অনেকটাই সহজ করে দিতে পারে। এমনই একটি বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছিল মাদরাসাতুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ৫৫ জন শিক্ষার্থী। মাদ্রাসাটিতে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশোনা ও কুরআন তিলাওয়াত করে। কিন্তু পর্যাপ্ত ফ্যানের ব্যবস্থা না থাকায় প্রচণ্ড গরমের সময় তাদের শ্রেণিকক্ষে দীর্ঘ সময় বসে পড়াশোনা করা কষ্টকর হয়ে উঠত। গরমের অস্বস্তির কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ত। শিশুদের সঙ্গে কথা বললে তাদের সেই অভিজ্ঞতার কথাই উঠে আসে। আগে প্রচণ্ড গরমে পড়াশোনা করতে অসুবিধা হতো। এখন ফ্যানের ব্যবস্থা হওয়ায় তারা আরও স্বস্তিতে পড়াশোনা করতে পারবে। এই ছোট্ট পরিবর্তনটিই তাদের জন্য বড় একটি স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে Better Hope Foundation-এর Project Shitolota-এর আওতায় মাদরাসাতুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় ৩টি সিলিং ফ্যান প্রদান করা হয়েছে। উদ্যোগটির উদ্দেশ্য ছিল খুবই সাধারণ; শিশুরা যেন অতিরিক্ত গরমের অস্বস্তি ছাড়াই মাদ্রাসায় বসে পড়াশোনা করতে পারে, কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে এবং তাদের দৈনন্দিন শিক্ষাজীবনকে আরও স্বস্তিদায়কভাবে এগিয়ে নিতে পারে। একটি ফ্যান হয়তো খুব বড় কোনো পরিবর্তনের মতো মনে নাও হতে পারে। কিন্তু যে শিশুটি প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা একটি গরম শ্রেণিকক্ষে বসে পড়াশোনা করে, তার জন্য একটি ফ্যান হতে পারে প্রতিদিনের জীবনে বাস্তব স্বস্তির একটি মাধ্যম। একটি আরামদায়ক পরিবেশ শিশুর মনোযোগ ধরে রাখতে, শেখার আগ্রহ বজায় রাখতে এবং পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে সহায়তা করতে পারে। Better Hope Foundation বিশ্বাস করে, শিশুদের জন্য কাজ করার অর্থ শুধু তাদের বড় কোনো প্রয়োজন পূরণ করা নয়। তাদের প্রতিদিনের জীবনের ছোট ছোট অসুবিধাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো কমিয়ে আনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি শিশুর শিক্ষা শুধু সে কী শিখছে তার ওপর নির্ভর করে না; সে কোন পরিবেশে শিখছে, সেটিও তার শিক্ষার অভিজ্ঞতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। Project Shitolota সেই ভাবনা থেকেই কাজ করছে। মাদরাসাতুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় ৩টি সিলিং ফ্যান প্রদান এই উদ্যোগের একটি অংশ মাত্র। দেশের আরও অনেক মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীরা একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। কোথাও প্রচণ্ড গরমে পর্যাপ্ত ফ্যানের অভাব রয়েছে, কোথাও আবার শিশুদের পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক সুবিধাগুলো এখনো পর্যাপ্ত নয়। Better Hope Foundation-এর লক্ষ্য হলো ধাপে ধাপে এমন আরও মাদ্রাসার পাশে দাঁড়ানো এবং শিশুদের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক পড়াশোনার পরিবেশ তৈরিতে সহযোগিতা করা। আমরা বিশ্বাস করি, পরিবর্তন সবসময় বড় কোনো উদ্যোগ দিয়ে শুরু হয় না। কখনো কখনো একটি ছোট্ট সহযোগিতাই একটি শিশুর প্রতিদিনকে একটু সহজ করে দেওয়ার প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে। মাদরাসাতুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ৫৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৩টি সিলিং ফ্যান প্রদান Project Shitolota-এর একটি ছোট্ট পদক্ষেপ। তবে দেশের আরও অনেক মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীরা একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। তাদের জন্যও একটি স্বস্তিদায়ক ও উপযোগী পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। Better Hope Foundation-এর Project Shitolota-এর মাধ্যমে আমরা ধাপে ধাপে আরও মাদ্রাসার পাশে দাঁড়াতে চাই, যাতে গরমের অস্বস্তি কোনো শিশুর পড়াশোনা ও শেখার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। আমরা বিশ্বাস করি, একটি শিশুর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন সবসময় বড় কোনো উদ্যোগের মাধ্যমে আসে না। কখনো কখনো একটি ছোট্ট সহযোগিতা, একটি প্রয়োজনীয় ফ্যান কিংবা একটু স্বস্তিদায়ক পরিবেশও তার প্রতিদিনকে আরও সহজ করে তুলতে পারে। Project Shitolota; একটুখানি বাতাস, অনেকটা স্বস্তি।
PARTNERSHIPS FOR THE GOALS
বন্যাকবলিত এক পরিবারের নতুন ঘরের পথে বেটার হোপ ফাউন্ডেশন ও পাঞ্জেরি মানব সেবা ফাউন্ডেশন
বন্যা শুধু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করে না, একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবনকেও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়। চট্টগ্রামের একটি পরিবারও বন্যার পর এমন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। বন্যার পানিতে তাদের ঘরটি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। যে ঘরটি একসময় ছিল পরিবারের নিরাপদ আশ্রয়, প্রতিকূল সময় পার করার জায়গা এবং আপনজনদের নিয়ে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার ঠিকানা, সেই ঘরই একসময় তাদের জন্য হয়ে ওঠে অনিরাপদ ও বসবাসের অযোগ্য। একটি পরিবারের জন্য নিজের ঘর হারানোর কষ্ট শুধু মাথার ওপর একটি ছাদ হারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নিরাপত্তা হারানোর ভয়, প্রতিদিনের জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার দীর্ঘ অপেক্ষা। বন্যার পানি নেমে গেলেও তার রেখে যাওয়া ক্ষত অনেক সময় থেকে যায় আরও দীর্ঘদিন। ক্ষতিগ্রস্ত ঘর, নষ্ট হয়ে যাওয়া প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং নিরাপদে থাকার অনিশ্চয়তা একটি পরিবারকে প্রতিদিন নতুন করে সংকটের মুখোমুখি করে। চট্টগ্রামের এই পরিবারটির ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি ছিল তেমনই। বন্যার ক্ষয়ক্ষতির পর তাদের ঘরটি আর বসবাসের উপযোগী ছিল না। একটি নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন তখন হয়ে উঠেছিল সবচেয়ে জরুরি বিষয়গুলোর একটি। কারণ দুর্যোগের পর একটি পরিবারকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে হলে শুধু তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোই যথেষ্ট নয়; তাদের এমন একটি জায়গাও প্রয়োজন, যেখানে তারা আবার নিরাপদে ফিরতে পারবে, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারবে এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে। এই প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছে বেটার হোপ ফাউন্ডেশন ও পাঞ্জেরি মানব সেবা ফাউন্ডেশন। দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে পরিবারটির জন্য একটি নতুন, নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। পাঞ্জেরি মানব সেবা ফাউন্ডেশনের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহযোগিতা এবং বেটার হোপ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঘরটির নির্মাণকাজ ইতোমধ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে। একটি ঘর কখনোই শুধু ইট, বালু, কাঠ আর একটি ছাদের সমষ্টি নয়। একটি পরিবারের কাছে ঘর মানে নিরাপত্তা, স্বস্তি, আপনজনদের নিয়ে নিশ্চিন্তে থাকার জায়গা। ঘর মানে এমন একটি স্থান, যেখানে প্রতিদিনের ক্লান্তি শেষে মানুষ ফিরে আসে, যেখানে সন্তানরা নিরাপদে বেড়ে ওঠে এবং যেখানে ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখার সাহস তৈরি হয়। তাই দুর্যোগে যখন একটি পরিবার তার ঘর হারায়, তখন একটি নতুন ঘর নির্মাণের অর্থ তাদের জীবনে সেই নিরাপত্তা ও স্বস্তির জায়গাটি আবার ফিরিয়ে দেওয়া। এই ঘর নির্মাণের প্রতিটি ধাপের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি পরিবারের নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা। আজ যে জায়গায় একটি ক্ষতিগ্রস্ত ও বসবাসের অনুপযোগী ঘরের স্মৃতি রয়েছে, সেখানেই ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে একটি নতুন আশ্রয়। নির্মাণকাজ এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারটির জন্যও এগিয়ে আসছে সেই দিন, যেদিন তারা আবার নিজেদের একটি নিরাপদ ঘরে ফিরতে পারবে। বেটার হোপ ফাউন্ডেশন ও পাঞ্জেরি মানব সেবা ফাউন্ডেশন বিশ্বাস করে, দুর্যোগের পর মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করাও মানবিক দায়িত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী একটি পরিবারের তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে; কিন্তু একটি নিরাপদ ঘর তাদের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি স্থিরতা ফিরিয়ে আনার ভিত্তি তৈরি করে। এই উদ্যোগ তাই শুধু একটি ঘর নির্মাণের কাজ নয়। এটি একটি পরিবারের আবারও নিরাপদে ঘরে ফেরার অপেক্ষা। এটি বন্যার ক্ষতি পেরিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার একটি সুযোগ। যে পরিবারটি একসময় নিজের ঘরেই নিরাপদে থাকতে পারছিল না, তারা খুব শিগগিরই আবারও নিজেদের একটি নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ফিরে যেতে পারবে; এই প্রত্যাশাই এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় শক্তি। মানবিক কাজের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি হলো একসঙ্গে এগিয়ে আসা। বেটার হোপ ফাউন্ডেশন ও পাঞ্জেরি মানব সেবা ফাউন্ডেশনের এই যৌথ উদ্যোগ তারই একটি বাস্তব উদাহরণ। একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগের সঙ্গে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা যুক্ত হলে মানুষের প্রয়োজনের জায়গায় কাজ করা আরও সহজ, কার্যকর ও অর্থবহ হয়ে ওঠে। এই পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ ঘর তৈরির উদ্যোগে দুই প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দেখিয়ে দিচ্ছে, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি পরিবারের জীবনে কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনা সম্ভব। এই সহযোগিতা শুধু বর্তমান একটি পরিবারের জন্য নয়; এটি ভবিষ্যতে মানুষের প্রয়োজনের সময়ে আরও সম্মিলিতভাবে পাশে দাঁড়ানোর একটি ইতিবাচক পথও তৈরি করে। পাঞ্জেরি মানব সেবা ফাউন্ডেশনের আন্তরিক সহযোগিতা এবং বেটার হোপ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ ও বাস্তবায়নের সমন্বয়ে এই কাজটি এগিয়ে যাচ্ছে; যেখানে লক্ষ্য একটাই, একটি পরিবারকে আবারও নিরাপদ আশ্রয় ফিরিয়ে দেওয়া। আজ একটি পরিবারের জন্য যে ঘরটি তৈরি হচ্ছে, সেটিই তাদের আগামী দিনের নিরাপত্তার জায়গা হয়ে উঠবে। বন্যার ক্ষত হয়তো একদিন ধীরে ধীরে মুছে যাবে, কিন্তু সেই কঠিন সময়ের পর একটি নিরাপদ ঘর ফিরে পাওয়ার স্বস্তি পরিবারটির জীবনে দীর্ঘদিন থেকে যাবে। একটি ঘর ফিরে পাওয়া মানে শুধু একটি ঠিকানা ফিরে পাওয়া নয়; ফিরে পাওয়া নিরাপত্তা, স্বস্তি এবং আবারও নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস।
EMERGENCY FLOOD RELIEF
চট্টগ্রামের বন্যা: যখন একটি দুর্যোগ শুধু ঘর নয়, মানুষের ভবিষ্যৎও ভাসিয়ে নিয়ে যায়
রাত তখন প্রায় শেষ। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে। কেউ কল্পনাও করেনি, কয়েক ঘণ্টা পর তাদের জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ সকাল অপেক্ষা করছে। হঠাৎ করেই ঘরের ভেতর পানি ঢুকতে শুরু করল। প্রথমে পায়ের গোড়ালি, তারপর হাঁটু, তারপর কোমর। মুহূর্তের মধ্যেই গলা সমান পানি। চারদিকে শুধু চিৎকার, আতঙ্ক আর বাঁচার আকুতি। কোলে শিশু, হাতে বৃদ্ধ বাবা-মা, আর সামনে শুধু অনিশ্চয়তা। কে কী নিয়ে বের হবে, কী ফেলে যাবে; সিদ্ধান্ত নেওয়ারও সময় ছিল না। কয়েক মিনিটের মধ্যেই বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা একটি সংসার পানির নিচে হারিয়ে গেল। এটি একটি পরিবারের গল্প নয়। এটি চট্টগ্রামের বাঁশখালী, পুঁইছড়ি, ছনুয়া এবং আশপাশের হাজারো পরিবারের গল্প। কারও ঘর ভেঙে গেছে। কারও রান্নাঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। কারও কয়েক মাসের খাদ্য মজুত নষ্ট হয়ে গেছে। আবার অনেক পরিবার ঘরে ফিরেও দেখেছেন, থাকার মতো ঘর আছে, কিন্তু বেঁচে থাকার মতো কিছুই নেই। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সেই মানুষগুলো, যারা প্রতিদিনের আয় দিয়ে প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করেন। এই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ লবণ চাষ, মাছ ধরা কিংবা দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল। তাদের কাছে একদিন কাজ না থাকা মানেই একদিন না খেয়ে থাকা। আর যখন একটি বন্যা ঘর, জীবিকা আর সঞ্চয়; সবকিছু একসাথে কেড়ে নেয়, তখন সেই ক্ষতি শুধু অর্থনৈতিক নয়; সেটি হয়ে ওঠে অস্তিত্বের সংকট। যখন চারদিকে শুধু পানি, তখন প্রয়োজন ছিল মানুষের পাশে মানুষ; বন্যার শুরু থেকেই Better Hope Foundation-এর স্বেচ্ছাসেবীরা মাঠে নেমে পড়েন। কারণ আমরা জানতাম, এমন দুর্যোগে প্রতিটি ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক জায়গায় তখনও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, কোথাও হাঁটু সমান, কোথাও বুক সমান পানি। ভারী বৃষ্টি, কাদা আর ভাঙাচোরা রাস্তা পেরিয়ে আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা ট্রাকে, স্থানীয় যানবাহনে এবং হেঁটে পৌঁছে গেছেন দুর্গম এলাকায়। আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল; যে মানুষগুলো কয়েকদিন ধরে রান্না করতে পারছেন না, তাদের হাতে অন্তত কিছু শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়া। আমরা জানতাম, একটি বিস্কুটের প্যাকেট বা মুড়ির ব্যাগ হয়তো একটি পরিবারের সব সমস্যা সমাধান করবে না। কিন্তু সেই মুহূর্তে সেটিই ছিল তাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন। যখন ঘরে চুলা জ্বলে না, তখন একবেলার গরম খাবারই সবচেয়ে বড় স্বস্তি; মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে আমরা বুঝতে পারলাম, শুধু শুকনো খাবার যথেষ্ট নয়। অনেক পরিবার এমন অবস্থায় ছিলেন, যেখানে ঘরে চাল থাকলেও রান্না করার সুযোগ ছিল না। কারও রান্নাঘর পানির নিচে, কারও জ্বালানি নেই, কারও হাঁড়ি-পাতিল ভেসে গেছে। তখনই আমরা সিদ্ধান্ত নিই; রান্না করা খাবার পৌঁছে দিতে হবে। পুঁইছড়ি ইজ্জতিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানীয়ভাবে অস্থায়ী রান্নার ব্যবস্থা করা হয়। কোনো আধুনিক রান্নাঘর নয়, সীমিত সুযোগ-সুবিধা, তবুও স্বেচ্ছাসেবীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিরলসভাবে কাজ করেছেন। প্রথমে কয়েকশ মানুষের জন্য রান্না, তারপর আরও বড় পরিসরে খাবার প্রস্তুত করা হয়। এক পর্যায়ে ৬৫০ জনেরও বেশি বন্যাদুর্গত মানুষের হাতে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়। যখন একজন মা খাবারের প্যাকেট হাতে নিয়ে বলেন, "আজ আমার সন্তান অন্তত না খেয়ে ঘুমাবে না," তখন বোঝা যায়, একটি খাবারের মূল্য শুধু পেট ভরানো নয়; এটি একজন মানুষের কাছে আশার নাম। পানি কমেছে, কিন্তু দুর্ভোগ কমেনি; কয়েকদিন পর বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করল। বাইরের পৃথিবী হয়তো ভাবল, দুর্যোগ শেষ। কিন্তু আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা যখন মানুষের ঘরে ঘরে গেলেন, তখন দেখা গেল; আসল লড়াই তো এখন শুরু। মানুষ ঘরে ফিরেছেন, কিন্তু ঘরে নেই চাল, নেই ডাল, নেই তেল। পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে খাদ্যসামগ্রী, ভেসে গেছে সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। অনেকেই আমাদের বলছিলেন, "ভাই, একবেলার খাবার না, একটু বাজার পেলে আমরা নিজেরাই রান্না করে খেতে পারব।" সেই কথাগুলো আমাদের ভাবতে বাধ্য করেছিল। একবেলার খাবার থেকে কয়েকদিনের স্বস্তি; আমরা তখন খাদ্য সহায়তার নতুন ধাপ শুরু করি। পরিবারগুলোর জন্য প্রস্তুত করা হয় ফ্যামিলি ফুড প্যাকেজ। প্রতিটি প্যাকেজে ছিল: ৫ কেজি চাল ২ লিটার তেল ১ কেজি মসুর ডাল ৫ কেজি আলু ১ কেজি পেঁয়াজ এই একটি বাজার একটি ছোট পরিবারের প্রায় চার থেকে পাঁচ দিন এবং একটি বড় পরিবারের তিন থেকে চার দিন চলার মতো সহায়তা দিতে পারে। প্রথম ধাপে আমরা ৭০টি পরিবারের হাতে এই বাজার পৌঁছে দিতে সক্ষম হই। আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা শুধু একটি নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে বাজার বিতরণ করেননি। তারা ঘরে ঘরে গিয়ে সেই সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন, কারণ অনেক পরিবার তখনও বাইরে বের হওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন না। সবচেয়ে কঠিন দৃশ্য ছিল ভাঙা ঘরগুলোর সামনে দাঁড়ানো; খাবার দেওয়া সম্ভব। বাজার দেওয়া সম্ভব। কিন্তু যখন একটি পরিবারের মাথার ওপর আর কোনো নিরাপদ ছাদ থাকে না, তখন সেই অসহায়ত্ব ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমরা এমন অসংখ্য পরিবার দেখেছি, যাদের ঘরের দেয়াল ভেঙে পড়েছে, টিন উড়ে গেছে, মাটির ঘর ধসে গেছে। একজন মা তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে একটি ভাঙা ঘরের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেটিই ছিল তাঁর সবকিছু। একজন বাবা বলছিলেন, কয়েক বছরের সঞ্চয় দিয়ে ঘরটি তৈরি করেছিলেন। এক রাতের বন্যায় সব শেষ। এমন গল্প শুধু একটি নয়। পুঁইছড়ি, ছনুয়া এবং আশপাশের প্রায় প্রতিটি এলাকায় একই চিত্র। তাই আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য- পুনর্বাসন; দুর্যোগের সময় খাবার পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু একটি পরিবারকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা আরও বড় দায়িত্ব। Better Hope Foundation তাই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি ঘর তৈরি করা নয়। আমরা ফিরিয়ে দিতে চাই একটি পরিবারের নিরাপত্তা, মর্যাদা, স্বপ্ন এবং ভবিষ্যৎ। কারণ একটি ঘর শুধু চারটি দেয়াল নয়। একটি ঘর মানে- একজন মায়ের নিশ্চিন্ত ঘুম। একটি শিশুর নিরাপদ শৈশব। একজন বাবার নতুন করে লড়াই করার সাহস। এই গল্পের শেষ এখনো লেখা হয়নি; আমরা আমাদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু সত্যি বলতে, প্রয়োজন আমাদের সামর্থ্যের অনেক বেশি। এখনো অসংখ্য পরিবার অপেক্ষা করছেন; একটি খাবারের জন্য, একটি বাজারের জন্য, একটি নিরাপদ ঘরের জন্য। তাদের অপেক্ষা যেন খুব দীর্ঘ না হয়। দুর্যোগের খবর একসময় সংবাদপত্রের শিরোনাম থেকে হারিয়ে যায়। কিন্তু যাদের ঘর ভেঙে যায়, যাদের সংসার ভেসে যায়, তাদের লড়াই তখনও চলতে থাকে। Better Hope Foundation সেই লড়াইয়ে তাদের পাশে আছে। কারণ মানুষ মানুষের জন্য; এই কথাটি সবচেয়ে বেশি সত্য হয়ে ওঠে ঠিক এমন সময়েই।
ONE MEAL ONE HOPE
100 Days. Countless Smiles. One Shared Mission.
100 Days. Countless Smiles. One Shared Mission. For the past 100 days, One Meal, One Hope has been more than a meal distribution initiative. It has been a daily commitment to dignity, compassion, and the belief that no child should have to face hunger alone. Every plate served carries a story of kindness. Every volunteer who showed up, every donor who believed in our mission, and every supporter who stood beside us has helped turn compassion into action. These 100 days are not just a milestone. They represent hundreds of moments where hope was restored, communities came together, and children were reminded that they are seen, valued, and cared for. This journey has shown us that meaningful change doesn't always begin with grand gestures. Sometimes, it begins with a single meal, a helping hand, and people who choose to care consistently. To every volunteer, donor, partner, and well-wisher, thank you for making this journey possible. Your support has transformed generosity into lasting impact. As we celebrate 100 days, we also look ahead. Because our mission doesn't end here. Every new day is another opportunity to nourish lives, strengthen communities, and build a future where hope is served alongside every meal. 100 days down. Countless lives touched. This is only the beginning.
Project Alo
এমদাদুল হকের চোখের আলো বাঁচানোর লড়াই
মাত্র ৮ বছরের শিশু এমদাদুল হক। অন্য সব শিশুর মতোই তার দিন কাটে স্কুল, খেলাধুলা আর দুষ্টুমিতে। সেদিনও ছিল তেমনই একটি সাধারণ দিন। স্কুল থেকে ফিরে বাড়ির উঠোনে মায়ের পোষা একটি মোরগের সঙ্গে খেলছিল সে। খেলার একপর্যায়ে হঠাৎ মোরগটি তার বাম চোখে ঠোকর দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই একটি সাধারণ বিকেল পরিণত হয় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায়। ব্যথায় চিৎকার করে ওঠে ছোট্ট এমদাদুল। তার চোখ থেকে অনবরত রক্ত ঝরতে থাকে। রান্নাঘর থেকে ছুটে আসেন তার মা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের জীবনে নেমে আসে এক দুঃস্বপ্ন। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, জরুরি অস্ত্রোপচার ছাড়া তার চোখ রক্ষা করা সম্ভব নয়। কিন্তু সেই অস্ত্রোপচারের ব্যয় বহন করা ছিল পরিবারটির পক্ষে প্রায় অসম্ভব। এমদাদুলের পরিবার একটি ছোট্ট মাটির ঘরে বসবাস করে। তার বাবা একজন দিনমজুর ও জেলে। নিত্যদিনের সংসার চালাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচারের খরচ জোগাড় করা ছিল তাদের কল্পনারও বাইরে। ধার-দেনা করেও যখন পুরো অর্থের ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছিল না, তখন এক শুভাকাঙ্ক্ষীর মাধ্যমে তারা জানতে পারেন Better Hope Foundation-এর Project Alo সম্পর্কে। চিকিৎসা সহায়তার আবেদন পাওয়ার পর আমাদের টিম এমদাদুলের বাড়িতে যায়। পরিবারের সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এমদাদুলকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয় ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল-এ। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার প্রথম অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকদের আশঙ্কা ছিল, আঘাতের তীব্রতার কারণে বাম চোখের দৃষ্টি ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন। তবুও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার তীব্র ব্যথা কমানো সম্ভব হয় এবং পরিবার কিছুটা স্বস্তি ফিরে পায়। কিন্তু দুর্ভাগ্য যেন তখনও এমদাদুলের পিছু ছাড়েনি। কিছুদিন পর আবারও তার চোখে তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়। তাকে পুনরায় ঢাকায় আনা হয় এবং আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত কঠিন; বাম চোখটি অপসারণ না করলে ডান চোখের দৃষ্টিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। আবারও শুরু হয় অর্থ সংগ্রহের লড়াই। অসংখ্য সহৃদয় মানুষের সহযোগিতায় সেই কঠিন পথও অতিক্রম করা সম্ভব হয়। ২৭ জুন এমদাদুলের দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বাম চোখটি অপসারণ করে সেখানে একটি কৃত্রিম চোখ প্রতিস্থাপন করা হয়। এমদাদুলের দুটি অস্ত্রোপচার, হাসপাতালের ভর্তি-সংক্রান্ত ব্যয় এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত অন্যান্য সকল খরচ বহন করেছে Better Hope Foundation। এর ফলে একটি অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের কাঁধ থেকে নেমে যায় বিশাল আর্থিক বোঝা। আজ এমদাদুল তার ডান চোখের দৃষ্টি নিয়ে নিরাপদ। হয়তো হারানো চোখটি আর কখনো ফিরে আসবে না, কিন্তু সময়মতো চিকিৎসার কারণে তার অন্য চোখের দৃষ্টি রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। সে আবারও আর দশটি শিশুর মতো স্বাভাবিক শৈশবের পথে এগিয়ে যেতে পারবে; এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এমদাদুলের এই গল্প শুধুমাত্র একটি শিশুর চিকিৎসার গল্প নয়; এটি মানবিকতার শক্তির গল্প। অসংখ্য সহৃদয় মানুষের ভালোবাসা, আস্থা ও সহযোগিতার ফলেই সম্ভব হয়েছে তার চিকিৎসার প্রতিটি ধাপ। Better Hope Foundation বিশ্বাস করে, অর্থের অভাবে কোনো শিশুর চিকিৎসা থেমে থাকা উচিত নয়। এমদাদুলের মতো আরও অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়াতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আপনাদের অব্যাহত সহযোগিতায় আমরা চাই, কোনো শিশুকেই যেন আর দারিদ্র্যের কাছে হার মানতে না হয়।
One Meal One Hope
একটি বিয়ের দাওয়াত, যেখানে প্রথমবার অতিথি হলো রাস্তায় বেঁচে থাকা মানুষগুলো
২৪ মে ২০২৬ দিনটা শুধু একটি আয়োজন ছিল না, ছিল কিছু মানুষের জীবনে প্রথমবারের মতো “সম্মানিত অতিথি” হয়ে ওঠার দিন। Better Hope এর One Meal One Hope সেদিন আয়োজন করেছিল একটি ব্যতিক্রমী “বিয়ের দাওয়াত”, যেখানে অতিথি তালিকায় ছিল না কোনো পরিচিত মুখ, ছিল না কোনো সামাজিক মর্যাদার হিসাব ছিল শুধু সেই মানুষগুলো, যারা দিনের পর দিন রাস্তার পাশে ঘুমায়, ফুটপাথে জীবন কাটায়, আর নীরবে বেঁচে থাকার লড়াই করে। এই দাওয়াতের খবর তাদের জানানো হয়েছিল চার দিন আগে। কিন্তু সেই চার দিন যেন তাদের জীবনে আলাদা এক অপেক্ষা হয়ে এসেছিল। কেউ বিশ্বাস করতে পারছিল না “আমাদেরও কি কেউ দাওয়াত দিতে পারে?” কেউ আবার চুপচাপ জামাটা ধুয়ে রেখেছিল, যেন সত্যিই কোনো এক বিশেষ দিনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে। দাওয়াতের দিন যখন তারা এল, তখন দৃশ্যটা ছিল হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। কেউ নিজের একমাত্র জামাটা যত্ন করে পরে এসেছে, কেউ চুলটা ঠিক করে আঁচড়ে এসেছে, কেউ আবার ভাঙা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে বারবার দেখে নিয়েছে “আজ আমি অতিথি।” এই ছোট বাক্যটার ভেতরে কত বড় অনুভূতি লুকিয়ে ছিল, সেটা শুধু তাদের চোখেই দেখা গেছে। খাবার পরিবেশনের সময় কেউ তাড়াহুড়ো করেনি। কারও প্লেটের দিকে তাকালে মনে হচ্ছিল, সে শুধু খাবার খাচ্ছে না সে যেন বহু বছরের অবহেলা, কষ্ট আর অপমানের মাঝে আজ একটু শান্তি খুঁজে পাচ্ছে। কারও চোখ ভিজে উঠেছিল, কিন্তু সে চোখের জল দুঃখের ছিল না সেটা ছিল দীর্ঘদিন পর পাওয়া “মানুষ হিসেবে স্বীকৃতির” অনুভূতি। খাওয়ার পর একজন ধীরে ধীরে উঠে বলেছিল, “ভাই… জীবনে প্রথমবার মনে হইলো আমিও কারও দাওয়াতের মানুষ।” এই একটা বাক্যই পুরো আয়োজনের অর্থ বদলে দিয়েছিল।আমরা তখন বুঝতে পেরেছি ক্ষুধা শুধু পেটের নয়,ক্ষুধা থাকে সম্মানেরও।আর একটু ভালোবাসা, একটু ডাকে “তুমি আমার অতিথি ”এই অনুভূতিটাই অনেক সময় সবচেয়ে বড় খাবার হয়ে যায়।সেদিন Better Hope কাউকে শুধু খাবার দেয়নি।সেদিন আমরা চেষ্টা করেছি তাদের ভাঙা আত্মবিশ্বাসের জায়গায় একটু আলো রাখতে।
Nutrition
Agro Hut || Iftar Nutrition
রমজান মাস মানেই সংযম, সহমর্মিতা এবং একে অপরের সাথে সুখ ভাগাভাগি করার সময়। এই পবিত্র মাসে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই একটি সুন্দর মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে Agro Hut। সম্প্রতি Agro Hut রমজান উপলক্ষে প্রায় ৬০০ জন শিশুর মাঝে স্বাস্থ্যকর চিয়া সিড এবং খাঁটি গুড় বিতরণ করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল শিশুদের জন্য পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত একটি ইফতার নিশ্চিত করা, যাতে তারা সারাদিনের রোজার পর শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তি ফিরে পেতে পারে। রমজানে ইফতারের সময় শরীর দ্রুত শক্তি ও পানির চাহিদা অনুভব করে। তাই পুষ্টিগুণে ভরপুর খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। Agro Hut সেই বিষয়টি মাথায় রেখে শিশুদের জন্য চিয়া সিড ও গুড়ের সমন্বয়ে একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত পুষ্টিকর ইফতারের ব্যবস্থা করেছে। চিয়া সিড বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সুপারফুড হিসেবে পরিচিত। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান। অন্যদিকে গুড় হলো প্রাকৃতিক মিষ্টি, যা শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে এবং রক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধিতেও সহায়ক। এই দুই উপাদান একসাথে মিশিয়ে তৈরি করা শরবত শুধু সুস্বাদুই নয়, বরং অত্যন্ত পুষ্টিকর। তাই Agro Hut-এর এই উদ্যোগ শিশুদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ইফতার নিশ্চিত করেছে। ইফতারের সময় যখন শিশুদের হাতে চিয়া সিড ও গুড় দিয়ে তৈরি শরবত তুলে দেওয়া হয়, তখন তাদের মুখে দেখা যায় আনন্দ আর তৃপ্তির হাসি। সারাদিন রোজা রাখার পর ঠান্ডা ও মিষ্টি এই শরবত পান করে তারা যেন নতুন করে সতেজ হয়ে ওঠে। অনেক শিশুই জানিয়েছে, এই শরবত তাদের কাছে খুবই সুস্বাদু লেগেছে এবং তারা খুব আনন্দের সাথে এটি পান করেছে। তাদের এই তৃপ্তি ও আনন্দই ছিল Agro Hut-এর উদ্যোগের সবচেয়ে বড় সাফল্য। Agro Hut শুধু একটি কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানই নয়; এটি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ একটি সংগঠন হিসেবেও নিজেদের পরিচয় তুলে ধরছে। রমজানের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শিশুদের জন্য এমন একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি শুধু খাবার বিতরণ করেনি, বরং শিশুদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কেও সচেতনতা তৈরি করার একটি চেষ্টা করেছে। Agro Hut-এর এই উদ্যোগ সমাজের অন্য প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে। যদি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে অসংখ্য শিশু ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ রমজানের আনন্দ আরও সুন্দরভাবে উপভোগ করতে পারবে। রমজানের প্রকৃত শিক্ষা হলো সহমর্মিতা, ভাগাভাগি এবং মানবিকতা। Agro Hut-এর এই উদ্যোগ সেই শিক্ষারই একটি বাস্তব উদাহরণ। Agro Hut-এর এই মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে অনেকেই আশা করছেন। কারণ এ ধরনের উদ্যোগ শুধু সাময়িক আনন্দই দেয় না, বরং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথও তৈরি করে। রমজানের এই পবিত্র সময়ে ৬০০ শিশুর মুখে হাসি ফোটানোর মাধ্যমে Agro Hut দেখিয়ে দিয়েছে ছোট একটি উদ্যোগও অনেক মানুষের জীবনে বড় আনন্দ নিয়ে আসতে পারে। এই ধরনের উদ্যোগ যত বেশি ছড়িয়ে পড়বে, ততই আমাদের সমাজ হবে আরও মানবিক, আরও সহানুভূতিশীল।
ইফতার
এক এক প্লেট ইফতার,আর অপেক্ষার গল্প
এক প্লেট ইফতার, আর অপেক্ষার গল্প ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্ত। চারদিকে হালকা অস্থিরতা। কেউ খেজুর গুনছে, কেউ পানির বোতলের ঢাকনা খুলে রেখেছে। প্লাস্টিকের প্লেটের খসখস শব্দ, ছোলার গন্ধ, মুড়ির মচমচে আওয়াজ—সব মিলিয়ে এক ধরনের ক্ষুধার উৎসব। এই ভিড়ের মাঝেই এক কোণে চুপচাপ বসে ছিল ছোট্ট রাব্বি। তার কোলে একটা ইফতারের বাটি । কিন্তু সে খাচ্ছে না। তার চোখে তাড়া নেই। বরং অপেক্ষা আছে। একজন সেচ্ছাসেবী এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, রাব্বি, তুমি খাচ্ছো না কেন? রাব্বি খুব স্বাভাবিক গলায় বলল, বাসায় গিয়া আব্বা-আম্মার লগে বইয়া খামু। এই কথাটা শুনে সেচ্ছাসেবী থমকে গেলেন। তারা এখন কোথায়? আব্বায় কামে গেসে। আম্মায় মাইনসের বাসায় কাম করে। হেরা রাইতে আওয়ার পর, একলগে খামু। ততক্ষণে আজান পড়ে গেছে। চারপাশে সবাই খাওয়া শুরু করেছে। কিন্তু রাব্বি এখনো বসে আছে। তার ছোট্ট হাত দুটো প্যাকেটটা শক্ত করে ধরে আছে—যেন এই খাবারটা শুধু তার না, তার পরিবারের। এতক্ষণ না খেয়ে থাকবা!? সেচ্ছাসেবীর কণ্ঠে উদ্বেগ। রাব্বি তাকাল। চোখে অভিমান নেই, অভিযোগ নেই। শুধু এক অদ্ভুত স্থিরতা। তো কি? হেরাও তো না খাইয়া থাকে। এই এক লাইনে লুকিয়ে ছিল এক পরিবারের অদৃশ্য লড়াই। রাব্বির আব্বা দিনমজুর। কাজ পেলে খাওয়া, না পেলে না খেয়েই ঘুম। তার আম্মা তিনটা বাসায় কাজ করে। তবুও মাসের শেষে চাল ফুরিয়ে যায়। রাব্বি জানে তার মা ইফতারের সময় বলে “পেট ভরা আছে”, যদিও থাকে না। সে জানে তার আব্বা চুপচাপ বসে থাকে, যাতে ছেলে বুঝতে না পারে সে ক্ষুধার্ত। তাই আজ রাব্বিও ঠিক করেছে সে একা খাবে না।হয়তো রাতে টিনের ছোট্ট ঘরে তিনজন মাটিতে বসে একটা ভাঙা প্লেটে ইফতার ভাগ করবে। হয়তো পরিমাণ কম হবে। কিন্তু সেই মুহূর্তে তারা কেউ একা থাকবে না। আমরা প্রায়ই ভাবি, দারিদ্র্য মানেই শুধু অভাব। কিন্তু দারিদ্র্যের মাঝেও যে ভালোবাসা এত গভীর হতে পারে তা রাব্বির মতো শিশুরাই আমাদের শেখায়।ক্ষুধা শরীরকে দুর্বল করে। কিন্তু একসাথে থাকার ইচ্ছা মানুষকে শক্ত করে।সেদিন ইফতারের মাঠে অনেকেই পেট ভরে খেয়েছিল। কিন্তু সবচেয়ে বড় তৃপ্তিটা ছিল এক ছোট্ট ছেলের হৃদয়ে যে জানত, সে অপেক্ষা করছে ভালোবাসার জন্য।
Qurbani
কুরবানীর হাসি
“ভাইয়া… ঈদের দিন এই কার্ড দিয়ে খাওন পামু?” ছোট্ট সিয়ামের চোখে তখন অদ্ভুত এক আশা। স্বেচ্ছাসেবকের কাছে সেই প্রশ্নের স্পষ্ট কোনো উত্তর ছিল না। তবুও সে বলল “ইন শা আল্লাহ… তুমি আগে খেতে বসো।” কিছুক্ষণ পর আবার সিয়াম চুপচাপ এসে দাঁড়ায়। মুখে ছোট্ট হাসি… তারপর আবার প্রশ্ন “ভাইয়া… ঈদের দিন কি দিবা? বিরিয়ানি আনবা? আমার বিরিয়ানি খুব পছন্দ…” একটা শিশুর স্বপ্নটা দেখুন,না নতুন জামা,না খেলনা,না ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছে… তার স্বপ্ন শুধু এক প্লেট বিরিয়ানি। যে বয়সে ঈদ মানে আনন্দ, নতুন জামা, সেমাই আর পরিবার সেই বয়সে সিয়ামের ঈদ দাঁড়িয়ে আছে,একটা কার্ড আর এক প্লেট খাবারের আশায়। আমাদের কাছে হয়তো খুব সাধারণ কিছু, কিন্তু সিয়ামের জন্য সেটাই হতে পারে তার জীবনের সবচেয়ে খুশির ঈদ।হয়তো আমরা সবাই মিলে পারি এই ছোট্ট ইচ্ছেটা পূরণ করতে। আপনার সামান্য সহযোগিতা,একটা শিশুর ঈদকে বদলে দিতে পারে। আসুন, আমরা কারও ঈদের আনন্দ হয়ে উঠি। এক প্লেট বিরিয়ানি… একটা হাসি… একটা সুন্দর ঈদ।